শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আমরা দেখতে চাইনা কাঁধে ব্যাগভর্তি বই নিয়ে আমাদের শিশুরা স্কুলে যাচ্ছে। আমরা দেখতে চাই তারা হাসতে হাসতে খেলতে খেলতে প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে আগামী দিনের বাংলাদেশকে গড়ে তুলবে। গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুরস্থ ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা)-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
দেশে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট’ থেকে আগামীর বাংলাদেশের বড় ফুটবলাররা উঠে আসবে বলে আশা প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আজকে যেই বিশাল অঙ্কের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে এই অনুষ্ঠানটি করতে যাচ্ছি, আমার মনে হয় একটি বিশ্ব রেকর্ড। ৬৫ হাজারের ওপরে প্রতিষ্ঠান এ প্রতিযোগিতায় এসছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসবে আগামী দিনের মেসি, আগামী দিনের পেলে; এই আশা আমাদের রয়েছে। আমাদের শিশুরা যাতে পুষ্টিহীনতায় না ভোগে, সেজন্য সারা দেশের প্রত্যেকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু করা হচ্ছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘চলতি বছরের মধ্যে সব প্রাথমিক বিদ্যালয় মিড ডে মিল পাবে।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালের পর থেকে যেসব শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পাননি তাদের অবসর ভাতা চালু করবে সরকার। এ ভাতা চালু করতে ২ হাজার কোটি টাকার একটি থোক বরাদ্দ পাওয়া গেছে। মাস খানেকের মধ্যেই এর কার্যক্রম শুরু হবে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণ ও বহুমাত্রিক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যাতে উন্নয়ন শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক না হয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। মাহদী আমিন বলেন, আমাদের আগামী বাংলাদেশের মূল শক্তি হবে শিশু, কিশোর ও তরুণরা। তাদের হাত ধরেই ভবিষ্যত্ বাংলাদেশ নির্মিত হবে। সরকার এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু পড়াশোনায় নয়, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিতেও সমানভাবে দক্ষ হয়ে উঠবে। যে শিক্ষার্থী যে বিষয়ে ভালো করতে চায়, রাষ্ট্র তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।
প্রাথমিক শিক্ষা যতক্ষণ পর্যন্ত সবলভাবে দাঁড়িয়ে আছে ততক্ষণ পর্যন্ত সবল বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও বলিষ্ঠ করে গড়ে তুলতেই সরকার কাজ করছে। দেশের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই ক্রীড়া ও শিক্ষা উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যত্ নেতৃত্ব তৈরি করা হবে।

